কোচবিহার:ভোটের সময় সংখ্যালঘু বা তপশিলি তাস নিয়ে খেলার অভিযোগ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই ওঠে। এবার বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধেও একইরকম অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে কোচবিহার জেলায়।
কোচবিহার জেলার নয়টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সাতটিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। কোচবিহার লোকসভা আসনটি তপশিলি সংরক্ষিত আসন হলেও বিধানসভা আসনের ক্ষেত্রে চারটি সাধারণ অর্থাৎ অসংরক্ষিত আসন। এই চারটি আসনের মধ্যে যে দুইটি আসনের প্রাথীদের নাম জানিয়েছে বিজেপি তার মধ্যে দিনহাটা ও তুফানগঞ্জ আসনে সেই নিয়ম না মেনে তপশিলি রাজবংশী সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি । যেমন দিনহাটায় বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে আর তুফানগঞ্জে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভানেত্রী মালতী রাভাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিন্তু এমনটা করেনি। আবার শোনা যাচ্ছে কোচবিহার দক্ষিণ আসনেও নাকি একজন তপশিলি ডাক্তারকে প্রার্থীপদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। বাকি রইল নাটাবাড়ি। সেখানেও যিনি প্রার্থীপদ পাবেন তিনিও একমাত্র হতে পারেন তপশিলি সম্প্রদায় ছাড়া ।

ফলে চিত্রটা দাঁড়াচ্ছে এইরকম – ৭ টি ঘোষিত আসনেই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তপশিলি রাজবংশী গোষ্ঠীর মানুষ, আসনটি সংরক্ষিত হোক বা না হোক। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে বাধ্য। ভোটের আগে বিজেপি রাজবংশী তাস খেলে তাদের মধ্যে জেলায় নিজেদের অনেকটা এগিয়ে নিতে পারলেও প্রার্থীতালিকা নিয়ে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। কারণ দিনহাটা, কোচবিহার দক্ষিণ, নাটাবাড়ি ও তুফানগঞ্জে অসংরক্ষিত সাধারণ ভোটারদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে অনেকটা , যাদের বেশিরভাগ পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছেন। আর সেই কারণেই ওই আসনগুলিকে সংরক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে বিজেপি বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত পুণর্বিবেচনা না করলে ফলাফল আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে।

প্রশ্ন উঠেছে কেনো প্রার্থী বাছাই নিয়ে এমন রাজবংশী ও তপসিলি তাস খেললো বিজেপি ।মনে করা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিজেপির কিশোর বর্মন , জেলার নতুন অবজারভার দীপেন প্রামাণিক থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি মালতি রাভা সহ একাধিক দায়িত্ব প্রাপ্য সাধারণ সম্পাদকেরা সকলেই রাজবংশী ও তপশিলি সম্প্রদায় ভুক্ত । ফলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় এর ছায়া পড়বে এটাই স্বাভাবিক । আর প্রার্থী তালিকা তৈরী হবার পরেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে চুল চেরা বিশ্লেষণ ।