উত্তর ২৪ পরগনা:মহারাষ্ট্রের আম্বাননগরের কুপারগাঁও গ্রামের ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ শাখারি ভামন প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। নিখোঁজ পরিবারের মা ও ছেলে সুনীল শাখারী থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির ডায়েরি দায়ের করেন কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি। তার স্বজনরা তার নিখোঁজ হওয়ার কথা জানালেও তারা তাকে কোথাও খুঁজে পায়নি।

সেই নিখোঁজ ব্যক্তি হিংলগঞ্জ বাজার এলাকায় শীতের রাতে একটি দোকানের সামনের বারান্দায় দিনটি কাটাচ্ছিল।

এলাকার মানুষজন ওই ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা খোঁজার চেষ্টা করছিল কিন্তু সে তার নাম ও ঠিকানা বলতে পারেনি। তারপরে মার্কেট কমিটির সেক্রেটারি সুশান্ত ঘোষ প্রথমে সেই ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিয়ে ,দাড়ি চুল কাটিয়ে নতুন বস্ত্র পরিধান করিয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় দেয়।

তারপর নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার বাড়ির ঠিকানা বলতে সক্ষম হন। তিনি মারাঠি ভাষায় কথা বলেছিলেন।

হ্যাম রেডিও এবং স্থানীয় থানার মাধ্যমে তার বাড়ির ঠিকানা সন্ধানের পরে পুলিশ প্রশাসন সাখারি বাবুর ছবি পাঠিয়ে তার নাম এবং পরিচয় জানতে পারে।

ওই নিখোঁজ ব্যক্তির ছেলে সুনীল দুই বছর পর নিখোঁজ বাবাকে নিতে রবিবার দুপুর ২ টার দিকে মহারাষ্ট্র থেকে হিংগলগঞ্জে আসেন।

তারপরে নিখোঁজ বাবাকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছেলে তার বাড়ি মহারাষ্ট্রের যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এই দৃশ্যটি দেখতে হিংলগঞ্জের বাজারে ভিড় ছিল চোখে পরার মত ।
সমাজসেবক ও বাজার কমিটির সেক্রেটারি সুশান্ত ঘোষ বলেছেন, গত বিশ বছরে বিশ্বের শেষ প্রান্তের বহু মানুষ বাংলার শেষ সীমান্তের নিকটবর্তী বাংলাদেশের বগুড়া থেকে নিখোঁজ হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গত ২০ বছরে নিখোঁজ হওয়া প্রায় ৪৯ জনকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন এই অসহায় মানুষদের তাদের নিজের লোকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আমি মনে মনে অনেক শান্তি এবং তৃপ্তি খুঁজে পাই।