শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা:সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল ও মানুষের মঙ্গল কামনায় মহামিলনের ডাক দিল সুন্দরবন বাসি ।বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের আমবেড়িয়ায় ৫ দিন ব্যাপী মহানাম যজ্ঞ এবং সুন্দরবনের বনবিবি ঠাকুরের পুজোর অনুষ্ঠান কর্মসূচি শুরু হল।৫দিন ব‍্যাপী এই মহানাম যজ্ঞের অন‍্যতম অঙ্গ হলো সুন্দরবনের বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করে মঙ্গল কামনার জন‍্য বনবিবির মহানাম যজ্ঞ।

তার পাশাপাশি মূলত গ্রামের মহিলারা শুদ্ধ আচরণে প্রতিদিন একটি পিতলের কলসির মধ্যে এক মুঠো করে চাল জমিয়ে রেখে সেই চাল প্রতিটা ঘরের মহিলারা তাদের কাছ থেকে জোগাড় করে পৌঁছে দেয় এই নাম যজ্ঞের মঞ্চে।সেখান থেকে সুন্দরবনের মঙ্গলকামনায় মেতে ওঠে।জানা গেছে গ্রামের সমস্ত শ্রেণীর মানুষরা এই অন্ন গ্রহণ করেন এবং ৫ দিন কাটান ওই নাম যজ্ঞের মঞ্চে ।

এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী সুরজিৎ বর্মণের উদ্যোগে এই মহা মিলনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য সারা বছর যাতে গ্রামে সুখ-শান্তি বিরাজমান হয় ও ছেলে মেয়েদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি যেন সঠিক পথে এগোয়।

এই অনুষ্ঠানটি শুরু হয় মাঘী পূর্ণিমায় এই উৎসবে মেতে ওঠে কালিন্দী নদী পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি অর্থাৎ প্রত্যন্ত সুন্দরবনের মানুষ ।

মহামিলনের ডাক দেওয়া হয় যাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সুন্দরবনে সুখে শান্তিতে থাকে ও সারা বছর শস্যভান্ডার যাতে পরিপূর্ণ থাকে। তার জন্য বছরের এই দিনটাকে বেছে নিয়ে বনবিবির মহাযজ্ঞ করা হয়।

একদিকে এই অনুষ্ঠান ঘিরে মানুষের ঢল নামে জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আসেন এই মেলা উপভোগ করতে।

অন্য দিকে এই মেলায় প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে একই নিয়মে, এই মেলায় বিভিন্ন ধরণের পসরা সাজিয়ে বসে বিভিন্ন দোকান। গ্রামবাসীরা বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করেন এই মেলা থেকে যেমন কাচের রেশমি চুড়ি, লাল ফিতে, বিভিন্ন প্রজাতির হাড় দিয়ে বানানো কানের দুল ও গলার হার সবই পাওয়া যায় এই মেলায়।

এদিনের এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মন্ডল। বছরের এই সময় নবান্নের ধান ওঠে তাই সুন্দরবনের মানুষ যাত্রা, নাটক ও নানান সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে এই মেলা প্রাঙ্গণে মেতে ওঠে সব ধর্মের মানুষ।

সুন্দরবনের কালিন্দী নদীতে বাইশটি প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসিয়ে এই মহা মিলনে সূচনা হয়।