শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা:বসিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার বাগান এলাকায় ১৯৩০ সালে প্রায় ৫ কাঠা জমির উপর প্রথমে খড়ের চালের একটি ঘরে বসিরহাটের স্বাধীনতা সংগ্রামী দীনেশ মজুমদারের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতীয় পাঠাগার ব‍্যায়ামপীঠের। স্বাধীনতার পূর্বে বঙ্গ তথা ভারতের আনাচে -কানাচে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন ব‍্যায়াম সমিতি ও অনুশীলন সমিতি।তৎকালীন বিপ্লবীরা এই সব অনুশীলন সমিতির ঘরে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতির সমস্ত রকম আলোচনা পুস্তিকা আকারে লিপিবদ্ধ করতেন। সেই প্রতিলিপিগুলি কখনও পুস্তিকা ও কখনও পত্রিকা আকারে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে যেত দেশবাসীর মনে দেশাত্ববোধ জাগানোর জন্য।
দীনেশ মজুমদারের স্বপ্নের জাতীয় পাঠাগার ব‍্যায়ামপীঠ তার পুরোনো খোলস ত‍্যাগ করে নবরূপে সজ্জিত হল। প্রথমে ব‍্যায়ামপীঠ পরে জাতীয় পাঠাগারের উল্লেখ বিভিন্ন স্বদেশী পত্রিকা তথা পুস্তিকাতে উল্লেখ আছে। এই পাঠাগারে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পথের দাবী, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বদেশী পত্রিকা, অমৃতবাজার থেকে যুগান্তরে্র মতো পত্রিকার পুস্তিকা আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পাঠাগার ভগ্নদশায় অবহেলিত অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। বসিরহাট পৌরসভার উদ্যোগে এখানে একদিকে যেমন পাঠাগারকে বিভিন্ন রং তুলির ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, অন্যদিকে শতাব্দীপ্রাচীন এই জাতীয় পাঠাগারকে সংরক্ষণ করার সমস্ত ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশিষ্ট সমাজ কর্মী ছন্দক বাইন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই পাঠাগারটি বেহাল ও ভগ্ন অবস্থায় পড়েছিল, আজ নতুন রূপ পেল।” বসিরহাটের ছাত্র অর্কজ্যোতি হাজরা বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকের সোশ‍্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের চোখে মোবাইল স্ক্রিন দেখতে দেখতে এক দিকে চোখের সমস্যা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে। তাই বেশি করে বই পড়লে একদিকে মনের বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে জ্ঞানের প্রসার ঘটবে। আমি চাই, সব ছাত্রছাত্রীরা তারা পাঠাগারে এসে তাদের পুরনো ভারতবর্ষের ইতিহাস সংস্কৃতি জানার চেষ্টা করুক তাতেকরে বিপ্লবীদের কথা জানতে পারবে