তুফানগঞ্জ : বর্ষা শুরুর প্রাক মুহূর্তে তুফানগঞ্জ ব্লক প্রশাসন ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে নদী বাঁধগুলিতে নজরদারি চালানোর কাজ শুরু করল।গত রবিবার থেকে এই কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি ড্রোন ক্যামেরা কাজে লাগানো হয়েছে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এরফলে তুফানগঞ্জ মহকুমাবাসী খুশি।কর্মীরা ওই ড্রোন ক্যামেরাগুলি সাহায্যে নদীবাঁধ গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
ড্রোন ক্যামরা ব্যবহার করায় চিহ্নিতকরনের কাজ গতি পেয়েছে।সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির জেরে ব্লকের বিভিন্ন নদী বাঁধগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মূলতঃ তুফানগঞ্জ মহকুমার দুটি ব্লকের মধ্যে যে সমস্ত এলাকাগুলি বন্যা প্রবন সেই নদীবাঁধ গুলো বর্তমানে কি অবস্থায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চটজলদি পর্যবেক্ষণের জন্য এই ড্রোন ক্যামেরা গুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলির ছবি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ওই ছবিগুলি পাঠানো হবে জেলা প্রশাসনের কাছ,সেই মতই প্রশাসন কাজে নামবে।রবিবার এবং সোমবার এই দুইদিনে তুফানগঞ্জ ব্লক প্রশাসন দুটি ব্লকের মধ্যে থাকা বেশ কিছু নদী বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। ইতিমধ্যেই তুফানগঞ্জ ১ ব্লক প্রশাসন দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপালের খাতা, নাটাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাপরামারা, বাংলাদেশ সীমান্তের বালাভূত গ্রাম পঞ্চায়েতের চর বালাভূত এবং তুফানগঞ্জ শহর সংলগ্ন নাককাটিগছ গ্রাম পঞ্চায়েতের কামাত ফুলবারি এলাকার নদীবাঁধগুলির পরিস্থিতি ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে দেখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির ছবিও তুলে নিয়েছে। একইভাবে তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের অধীনে থাকা বিভিন্ন নদীবাঁধগুলিও ব্লক প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।
তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বিডিও প্রসেনজিৎ কুন্ডু বলেন বন্যা প্রবন এলাকাগুলির পাশে থাকা নদীবাঁধগুলির পরিস্থিতি বর্তমানে কি অবস্থায় রয়েছে তা অল্প সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখার জন্যই আমরা ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করছি। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির ছবি তুলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এই ড্রোনের বিষয়ে তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের বিডিও দেবর্ষি বন্দোপাধ্যায় বিস্তারিতভাবে কিছু জানাতে চাননি। কাজ শুরু হয়েছে তিনি শুধু এটাই জানিয়েছেন।
তুফানগঞ্জ মহকুমার মধ্যে দিয়ে ছোটবড় মিলে বেশ কয়েকটি নদী বয়ে গেছে। তারমধ্যে বড় নদী রয়েছে কালজানি, রায়ডাক ও সঙ্কোশ । সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির জেরে নদী গুলিতে জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। জল কমতেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।নদীবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে প্রশাসন।